Close Menu
    What's Hot

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটি শুরু

    16 October, 2026

    Casino Utan Svensk Licens Topplista För 10 Euro Insättning (2)

    16 October, 2026

    শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ

    16 October, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    Trending
    • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটি শুরু
    • Casino Utan Svensk Licens Topplista För 10 Euro Insättning (2)
    • শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ
    • গভীর রাতে গুলশানের দুই ক্লাবে মাদকবিরোধী অভিযান
    • Discover the Thrills of Mr Jones Casino 359893875
    • Quick Withdrawal Casinos A Guide to Fast Earnings
    • Pay with Echeck at Online Casinos A Comprehensive Guide 390391859
    • The Rise of Mobile Gambling Websites A Comprehensive Guide
    • সর্বশেষ
    • জাতীয়
    • আন্তর্জাতিক
    • সারাদেশ
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • বিনোদন
    • ধর্ম
    • খেলাধুলা
    • অন্যান্য
      • মন্ত্রণালয়
      • অপরাধ ও দুর্নীতি
      • আবহাওয়া ও পরিবেশ
      • শিক্ষা
      • কৃষি
      • রাজধানী
      • স্বাস্থ্য
    Facebook X (Twitter) Instagram
    দেশ বার্তাদেশ বার্তা
    Subscribe
    18 October, 2026
    • সর্বশেষ
    • জাতীয়
    • আন্তর্জাতিক
    • সারাদেশ
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • বিনোদন
    • ধর্ম
    • খেলাধুলা
    • অন্যান্য
      • মন্ত্রণালয়
      • অপরাধ ও দুর্নীতি
      • আবহাওয়া ও পরিবেশ
      • শিক্ষা
      • কৃষি
      • রাজধানী
      • স্বাস্থ্য
    দেশ বার্তাদেশ বার্তা
    Home » ঢাকা কাস্টমস বন্ড উত্তরে ঘুষের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

    ঢাকা কাস্টমস বন্ড উত্তরে ঘুষের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

    NasimBy Nasim8 September, 2026 অপরাধ ও দুর্নীতি No Comments8 Mins Read
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest Email

    বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনার অন্যতম কেন্দ্র বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)। কিন্তু এই স্পর্শকাতর রাজস্ব প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা একের পর এক ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বন্ড সুবিধার অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম এবং কমিশনারের স্টাফ অফিসার এআরও চৌধুরী গোলাম হাসনাইন ওরফে ‘পিচাস হাসনাইন’।

    সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সদ্য বিদায়ী কমিশনার আবু ওবায়দা ও অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের ছত্রছায়ায় মাসুম-হাসনাইন চক্র দীর্ঘদিন ধরে উত্তর বন্ড কমিশনারেটে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।অভিযোগগুলোর ধরন ও ব্যাপকতা এতটাই গুরুতর যে, সংশ্লিষ্টদের দাবি—বদলি কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজন আর্থিক ও প্রশাসনিক পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। নতুন কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা—নতুন নেতৃত্ব কোনো পক্ষের চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে অভিযোগগুলোর নথিভিত্তিক অনুসন্ধান করবেন।

    প্রতি মাসে ১০ কোটি টাকা!—অভিযোগের ভয়াবহতা কতটা ? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে যোগদানের পর মাসুম-হাসনাইন চক্র বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করেছে। কোনো কোনো সূত্রের দাবি, এই অর্থের পরিমাণ প্রতি মাসে অন্তত ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, বন্ড সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রাখা, অডিট প্রক্রিয়া শিথিল করা, শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার, বন্ড লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি কিংবা তা দ্রুত নিরসনের নামে অনৈতিক আর্থিক সমঝোতার সুযোগ তৈরি করা হতো। ফলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ফাইল, নথি, ব্যাংক লেনদেন ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

    ডিপ্লোমেটিক বন্ডে মাসে ২–৩ কোটি টাকার ‘মাসোহারা’?
    মাসুমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলোর একটি হলো ডিপ্লোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউস।অভিযোগকারীদের দাবি, ডিপ্লোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউসের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে মাসে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ মাসোহারা আদায় করা হতো।
    একজন সরকারি রাজস্ব কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এমন বিপুল অঙ্কের অর্থের কোনো সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা জানতে তার ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, বিনিয়োগ এবং পারিবারিক সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
    অভিযোগটি সত্য হলে তা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নয়; বরং রাজস্ব ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে সংঘবদ্ধ আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করবে।

    ‘গুরু ঠাকুর’ ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার—দেলোয়ারকে ঘিরেও প্রশ্ন : সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মাসুম-হাসনাইন চক্রের প্রভাব বিস্তারে সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
    অভিযোগ অনুযায়ী, গোলাম হাসনাইন, কমিশনারের পিএ মজনু মিয়াসহ কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সিপাহীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা বন্ড সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন। মাসুম ও হাসনাইন যেখানে কর্মরত ছিলেন, সেখানেই ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

    ‘হেডকোয়ার্টার রাজস্ব কর্মকর্তা’ পদ নিয়েও প্রশ্ন :
    মাসুমের পদায়ন নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেট থেকে উত্তর বন্ড কমিশনারেটে বদলি হয়ে আসার পর জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করে তদবিরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ‘হেডকোয়ার্টার রাজস্ব কর্মকর্তা’ পদটি তিনি বাগিয়ে নেন। এই পদে থেকে কমিশনারেটের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ফাইল, অডিট, শোকজ এবং বন্ড লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যক্রমে এই পদকে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আর্থিক সমঝোতার সুযোগ তৈরি করা হতো। তদন্তের স্বার্থে তাই প্রশ্ন উঠছে—মাসুমকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কী ছিল, কার অনুমোদনে হয়েছিল এবং তার জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক যোগ্যতা কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল ?

    স্ত্রীর নামে ভাটারায় সম্পত্তি নথিতে ভয়াবহ গরমিলের অভিযোগ : মাসুমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আরেকটি গুরুতর দিক হলো তার পরিবারের নামে সম্পদ অর্জন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রী সানজিদা আফরিন লিপির নামে রাজধানীর ভাটারা মৌজায় উল্লেখযোগ্য ভূ-সম্পত্তি রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গৃহিণী হিসেবে পরিচিত লিপির দৃশ্যমান স্বতন্ত্র আয়ের উৎস না থাকলেও তার নামে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে।
    অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভাটারা মৌজার জেএল নং ১৫, নামজারি খতিয়ান নং ২৯৭১৬, দাগ নং ২০৭৬৩-এর সম্পত্তি নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৭৫৬(IX-I) নম্বর নামজারি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এখানেই দেখা দিয়েছে আরও বড় প্রশ্ন।
    অভিযোগকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মূল নামজারি খতিয়ানে জমির পরিমাণ ০.৪০০০ একর, অর্থাৎ ৪০ শতাংশ বা ২৪ কাঠা। অন্যদিকে ডিজিটাল ভূমি রেকর্ডে একই সম্পত্তির পরিমাণ ৪.৯৬ একর, অর্থাৎ প্রায় ৩০০ কাঠা দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। একই সম্পত্তির পরিমাণে এমন বিশাল পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে একমাত্র সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের মূল রেকর্ড ও নথিপত্র। অভিযোগকারীদের দেওয়া বাজারদরের হিসাব অনুযায়ী, ভাটারা এলাকায় প্রতি কাঠা ৬০ লাখ থেকে ১.৫ কোটি টাকা ধরলে ৪০ শতাংশ জমির আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ৩৬ কোটি টাকা হতে পারে। আর ডিজিটাল রেকর্ডে দেখানো ৪.৯৬ একর জমির মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে তাদের দাবি। এ জন্য প্রয়োজন মূল খতিয়ান, নামজারি নথি, দলিল, ভূমি উন্নয়ন করের রেকর্ড এবং সরেজমিন যাচাই।

    চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ : মাসুম-হাসনাইন চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলা বাজারে বিক্রির সঙ্গে যুক্ত একটি চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন অভিজাত বারে তাদের নিয়মিত আড্ডা বসত এবং সেখানে বন্ড সুবিধাভোগী ও চোরাচালান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। এমনকি মাসুম ও হাসনাইন পরোক্ষভাবে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত—এমন অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে নেই। ফলে সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, আর্থিক লেনদেন, আমদানি-রপ্তানি নথি, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আইনসম্মত যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    স্বল্প চাকরিজীবনে অঢেল সম্পদ—উৎস কোথায় ?
    অভিযোগকারীদের দাবি, মাসুম ও হাসনাইন স্বল্প সময়ের চাকরিজীবনেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। স্ত্রী ও আত্মীয়দের নামে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা ছাড়াও খুলনার সোনাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন একটাই—এসব সম্পদের অর্থের উৎস কী ? এ কারণে সংশ্লিষ্টরা মাসুম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক বিনিয়োগসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। একইভাবে হাসনাইনের ক্ষেত্রেও সম্পদ বিবরণী ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    শুধু বদলি নয়, দরকার ‘মানি ট্রেইল’ অনুসরণ : অভিযোগের পর মাসুমকে উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে বদলি করা হতে পারে—এমন গুঞ্জন রয়েছে। আবার অভিযোগ ধামাচাপা দিতে তিনি নিজেই অন্যত্র বদলির চেষ্টা করছেন বলেও একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে বদলি সংক্রান্ত এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ সত্য হলে কেবল বদলি কোনো সমাধান নয়। কারণ বদলি হলে প্রশাসনিক অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু অভিযোগে উল্লিখিত আর্থিক লেনদেনের হিসাব মুছে যায় না। বরং অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত—অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কোথায় গেছে এবং কার মাধ্যমে গেছে।

    দুদকের নজরদারির দাবি—তদন্ত কোথায় ? মাসুম-হাসনাইন চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরদারি রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে । ফলে এখন প্রশ্ন—এত গুরুতর অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি নথিভিত্তিক অনুসন্ধানে যাবে, নাকি অভিযোগগুলো বদলি ও প্রশাসনিক রদবদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে ?

    অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের দৃষ্টি আকর্ষণ : রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যবস্থার কোনো স্তরে যদি ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অনৈতিক আর্থিক সমঝোতা সত্যিই প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তাহলে তার অভিঘাত শুধু একজন কর্মকর্তা বা একটি কমিশনারেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে ব্যবসার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, প্রকৃত রপ্তানিকারকরা হয়রানির শিকার হতে পারেন এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ব্যবস্থার প্রতি আস্থাও নষ্ট হতে পারে। তাই অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের প্রতি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহ্বান—বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পাশ কাটিয়ে না গিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের আওতায় আনা হোক।

    বিশেষ করে তদন্তে যেসব বিষয় অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি উঠেছে, সেগুলো হলো- মাসুম ও হাসনাইনের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন যাচাই, তাদের ও পরিবারের সদস্যদের আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী পরীক্ষা, স্ত্রী ও আত্মীয়দের নামে থাকা জমি-ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধান, ডিপ্লোমেটিক বন্ড ওয়্যারহাউসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফাইল, অডিট ও লেনদেন পর্যালোচনা, মাসুমের স্বাক্ষরিত ফাইল নোটিং, সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশনা পরীক্ষা, বন্ড সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সাক্ষ্য গ্রহণ, অভিযোগে উল্লিখিত সিঅ্যান্ডএফ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের আইনসম্মত নথি যাচাই; ভাটারা মৌজার বিতর্কিত জমির মূল ভূমি রেকর্ড ও নামজারি নথি পুনঃযাচাই, প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেনের মানি ট্রেইল অনুসরণ।

    নতুন কমিশনারের সামনে এখনই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা :
    উত্তর বন্ড কমিশনারেটে নতুন কমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা—পুরোনো প্রভাববলয় ভেঙে প্রতিষ্ঠানটিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—মাসুম-হাসনাইন চক্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কি তদন্তের টেবিলে যাবে, নাকি ফাইলের স্তূপের নিচেই চাপা পড়ে থাকবে ? অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকার কথা নয়। কারণ কাস্টমস বন্ড কোনো ব্যক্তিগত প্রভাববলয়ের জায়গা নয়; এটি রাষ্ট্রের রাজস্ব ও রপ্তানি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘুষের অভিযোগ, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ—সবকিছুর কেন্দ্র যদি একই নেটওয়ার্কে গিয়ে মেলে, তাহলে প্রশ্নটি আর শুধু ‘মাসুম-হাসনাইন’কে ঘিরে থাকে না; প্রশ্ন ওঠে পুরো তদারকি ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়েও। এখন দেখার বিষয়—জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং অভিযোগের আড়ালে সত্যিই কোনো ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ ছিল কি না, তা বের করতে কতদূর যায়।

    সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য :
    উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুম, চৌধুরী গোলাম হাসনাইন, সদ্য বিদায়ী কমিশনার আবু ওবায়দা এবং অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

    Nasim

    Keep Reading

    গভীর রাতে গুলশানের দুই ক্লাবে মাদকবিরোধী অভিযান

    ‘ক্যাশিয়ার’ কায়কোবাদ, কমিশন বাণিজ্য থেকে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

    ট্রাইব্যুনালে শোকজের পরও ডিপিসির তৎপরতার অভিযোগ—গণপূর্ত ই/এমে তিন প্রকৌশলীকে ঘিরে আইনগত প্রশ্ন

    পদোন্নতির বৈধতা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা, তবু উচ্চতর পদে নেওয়ার তৎপরতা—গণপূর্তে প্রশাসনিক জটিলতা

    ট্রাইব্যুনালের শোকজ চলমান, তবু পদোন্নতির উদ্যোগ—গণপূর্ত ই/এমে তিন প্রকৌশলীকে ঘিরে অভিযোগ

    দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা এমপি গাজী নজরুল আরও চার দিনের রিমান্ডে

    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Editors Picks
    Latest Posts

    Subscribe to News

    Get the latest sports news from NewsSite about world, sports and politics.

    Advertisement
    Demo

    প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ নজরুল ইসলাম
    ফোন নাম্বারঃ+880 1325405711
    মেইলঃ deshbarta@gmail.com

     

    সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়ঃ রোড নং ৪, বাড়ি নং ৭৮ ব্লক এ নিকেতন গুলশান ১

    © 2026 ThemeSphere. Designed by Md. Robin Mia.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.